আগে শক্তির পার্থক্যটা দেখি। দক্ষিণ কোরিয়ার পুরো দলের বাজারমূল্য ১৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো, আর দক্ষিণ আফ্রিকার মাত্র ৪ কোটি ৯০ লাখ—প্রায় তিন গুণেরও বেশি ফারাক। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ২৩, দক্ষিণ আফ্রিকা ৬০—দুই দল এক কাতারের নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার আরও দুইজন মূল খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারছেন না; ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সিসোল এবং ফরোয়ার্ড জ্বানে—দুজনেই নেই। ফলে মাঝমাঠের রক্ষণাত্মক শক্তি আর আক্রমণভাগের ফিনিশিং ক্ষমতা দুটোই কমে যাবে。
এবার লড়াইয়ের মনোভাবের কথা বলি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে অবশ্যই জিততে হবে গ্রুপ থেকে উঠতে, তাই তাদের আক্রমণে উঠতেই হবে। কিন্তু তাদের আক্রমণের মানই বা কেমন? আগের দুই রাউন্ডে মাত্র ১টি গোল করেছে, সেটাও মাঝমাঠের এক দূরপাল্লার শটে ভাগ্যজোরে। স্ট্রাইকাররা এখনো গোলের মুখ দেখেনি। ভরসা বলতে সেই একমাত্র ফস্টার। দক্ষিণ কোরিয়া যদি তাকে আটকে দিতে পারে, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার তেমন কোনো হুমকিই থাকবে না।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে ড্র করলেই নকআউটে ওঠা যাবে, তবে তার মানে এই নয় যে তারা রক্ষণাত্মক খেলবে। সন হিউং-মিন, লি কাং-ইনের মতো খেলোয়াড় থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্সের বিপক্ষে স্বাভাবিক খেলায় গোল আসবেই। আর দক্ষিণ কোরিয়ারও গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ার ইচ্ছা আছে, যাতে নকআউট পর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়া যায়; তাই ইচ্ছে করে ড্র করারও প্রয়োজন নেই।
অবশ্যই ঝুঁকিও আছে। যদি দক্ষিণ কোরিয়া ভেবে নেয় ড্র হলেই চলবে এবং গতি কমিয়ে দেয়, তাহলে হয়তো এক গোলের ব্যবধানে জিতে হ্যান্ডিক্যাপ কভার করতে পারবে না। তবে সামগ্রিকভাবে ০.৭৫ হ্যান্ডিক্যাপের এই লাইনটা—দুই দলের শক্তির ব্যবধান আর কৌশলগত ধরন বিবেচনায়—দক্ষিণ কোরিয়ার জয় ও হ্যান্ডিক্যাপ কভার করার সম্ভাবনাই আমি বেশি মনে করি।