এটা সেই ধরনের ম্যাচ নয়, যেটা সবাই লুফে দেখতে চায়। কিন্তু অনেক সময় এমন কম-আলোচিত লড়াইতেই আলাদা কিছু থাকে। দুই দলকে ভালোভাবে দেখে আমার মনে হয়েছে, গোলের সংখ্যাটা বাজারে একটু কম মূল্যায়িত হয়েছে।
আগে কঙ্গোর কথা বলি। তাদের ফুটবল স্টাইল বেশ সরাসরি—এরা আপনার সঙ্গে বল ধরে ধরে ঘুরে বেড়াবে না, বল পেলেই সামনে পাঠিয়ে দেবে। সামনের সারিতে ফ্রান্স আর বেলজিয়ামে খেলা কয়েকজন ফুটবলার আছে, ব্যক্তিগত সামর্থ্য মোটেই খারাপ নয়, বিশেষ করে উইংয়ে তাদের স্টার্ট খুবই দ্রুত। কঙ্গোর রক্ষণভাগের সমস্যা শরীরি শক্তি নয়, মনোযোগ। তাদের ব্যাকলাইন অনেক সময় হঠাৎই যেন বন্ধ হয়ে যায়; খুব একটা বিপজ্জনক না হওয়া বল থেকেও তারা অনায়াসে বিপদ ডেকে আনে। এমন দলের কাছ থেকে ক্লিন শিট আশা করা একটু কঠিন।
উজবেকিস্তানের ক্ষেত্রে অনেকেরই এই দল নিয়ে তেমন ধারণা নেই। কিন্তু বলি, গত কয়েক বছরে তারা বেশ উন্নতি করেছে। খেলায় ক্রমেই শৃঙ্খলা এসেছে, মাঝমাঠে পাসিং আর বল দখল দুটোই করতে পারে—আগের মতো শুধু লম্বা বল আর হাই বলের ফুটবল আর নয়। তাদের ফরোয়ার্ড লাইনে রুশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা একজন গোলস্কোরার আছে, যার ফিনিশিং বেশ ধারালো। আফ্রিকান দলের বিপক্ষে খেলতে গেলে তারা শারীরিক লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকে না, আর তাদের ডিসিপ্লিনও ভালো।
তাহলে এই ম্যাচটার চিত্র কেমন হতে পারে? কঙ্গো চাইবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে চাপ সৃষ্টি করতে, আর উজবেকিস্তান চাইবে দলগত সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে ভেঙে ফেলতে। দুই দলের রক্ষণই খুব একটা মজবুত নয়, তবে আক্রমণে দু’দলেরই নিজস্ব অস্ত্র আছে। এমন সেটআপে গোল খুব কম হবে বলে মনে হয় না।
কঙ্গোর সেট-পিসে উচ্চতার সুবিধা আছে, আর উজবেকিস্তানের বক্সের বাইরে দূরপাল্লার শটেও লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা আছে। দুই গোলরক্ষকই এমন নন যে একাই পুরো দলকে টেনে নিয়ে যাবেন। একবার গোল হজম করা শুরু হলে, মানসিকতা একটু ভাঙলেই দ্বিতীয়, তৃতীয়টাও চলে আসতে পারে।
2.25-এর এই লাইনটা ধরলে, দুই গোল হলে অর্ধেক ক্ষতি, আর তিন গোল হলে পুরো জয়। দুই দলের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো দেখে মনে হয়েছে, এ ধরনের মহাদেশীয় প্রীতি ম্যাচে রক্ষণভাগের তীব্রতা সাধারণত পুরোপুরি থাকে না, কারণ সবাই তখন স্কোয়াড পরীক্ষা আর ছন্দ খোঁজার কাজ করে। গতি খুব টানটান হবে না, বরং আক্রমণভাগের জন্য সেটা আরও সুবিধাজনক হতে পারে।