一、ইতিহাসের লড়াই: বিশ্বকাপে প্রথম দেখা, প্রীতি ম্যাচে সামান্য এগিয়ে পর্তুগাল
প্রথমে ইতিহাসের কথা বলি, এই ম্যাচটা বেশ জমার মতো —— বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে দুই দলের এটি প্রথম মুখোমুখি হওয়া। এর আগে দুই দল শুধু প্রীতি ম্যাচে ৪ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে পর্তুগাল ২ জয় ১ ড্র ১ হারে সামান্য এগিয়ে আছে; সামগ্রিক শক্তিতেও পর্তুগাল বরাবরই এগিয়ে ছিল। সর্বশেষ মুখোমুখি হয় ২০১৯ সালের এক প্রীতি ম্যাচে, তখন কলম্বিয়া ২-০ গোলে জিতেছিল, তবে ওই ম্যাচে পর্তুগালের প্রায় পুরোটাই ছিল রিজার্ভ দল, তাই সেটার গুরুত্ব খুব বেশি নয়।
তবে প্রীতি ম্যাচ তো প্রীতি ম্যাচই, আর বিশ্বকাপের মূল ম্যাচের তীব্রতা একেবারেই আলাদা। বড় মঞ্চে পর্তুগালের তারকাখচিত স্কোয়াড আর অভিজ্ঞতা কলম্বিয়ার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে। বিশেষ করে সি রোনালদো (C 罗)-এর মতো খেলোয়াড়রা, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এলেই জ্বলে ওঠেন—এটাই কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।
二、লড়াইয়ের মানসিকতা: পর্তুগালের জয় চাই, কলম্বিয়ার ড্রই যথেষ্ট
এই ম্যাচের মূল ভেরিয়েবল হলো দুই দলের লড়াইয়ের মানসিকতা একেবারেই আলাদা। আগে পয়েন্ট টেবিলটা দেখি: K গ্রুপে দুই ম্যাচ শেষে কলম্বিয়া দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে, ড্র করলেই আরামে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে; পর্তুগাল ১ জয় ১ ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে, আর শীর্ষে উঠতে হলে তাদের জিততেই হবে।
স্বাভাবিকভাবে কলম্বিয়া টানা দুই জয় নিয়ে এগিয়ে থাকায় তাদেরই বেশি ফেবারিট মনে হতে পারে, কিন্তু ফুটবলে হিসাবটা এত সরল নয়। কলম্বিয়া ইতিমধ্যেই পরের রাউন্ডে উঠে গেছে, ড্র করলেই প্রথম স্থান নিশ্চিত—এমন অবস্থায় খেলোয়াড়দের মানসিকতা একটু শিথিল হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ হারলেও তো তারা বেরিয়ে যাচ্ছে, তাই খুব বেশি ঝুঁকি নেওয়ার দরকার নেই; আর চোট-আঘাত লাগলে ক্ষতিটাই বেশি। তাছাড়া কলম্বিয়ার কোচ লোরেনজো ইঙ্গিত দিয়েছেন, শেষ ম্যাচে তিনি কিছুটা রোটেশন করবেন, কিছু মূল খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেবেন, যাতে নকআউট পর্বের জন্য ফিটনেস জমিয়ে রাখা যায়।
পর্তুগালের ক্ষেত্রে চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া মানে নকআউট পর্বেই হয়তো আর্জেন্টিনা বা ফ্রান্সের মতো শিরোপা-ফেভারিটদের মুখোমুখি হতে হবে—যা পর্তুগাল একদমই চায় না। তাই ডেথ হাফ এড়াতে পর্তুগালকে সর্বশক্তি দিয়ে জিততে হবে এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। সি রোনালদোও ম্যাচের আগে বলেছেন, দল পুরো শক্তি দিয়ে লড়বে, কোনো রকম রক্ষণশীলতা থাকবে না। এই ‘জিততেই হবে’ মানসিকতা পর্তুগালের লড়াকু মনোভাব আর মনোযোগকে পুরোপুরি বাড়িয়ে দেবে।
三、আক্রমণ-রক্ষণ পরিসংখ্যান: পর্তুগালের দলগত মূল্য কলম্বিয়ার তিন গুণেরও বেশি
এবার আসি কঠিন তথ্য-প্রমাণে। পর্তুগালের FIFA র্যাঙ্কিং বিশ্বে ৫ নম্বরে, আর তাদের মোট দলগত মূল্য ১০.১ বিলিয়ন ইউরো, যা এই বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপা-ফেভারিট বানিয়েছে। স্কোয়াডে তারকার ছড়াছড়ি—সি রোনালদো, বি ফে (B 费), বি সিলভা (B 席), লেও (莱奥), ফেলিক্স, রুবেন দিয়াস… হাত বাড়ালেই পাঁচ বড় লিগের শীর্ষ ক্লাবের মূল খেলোয়াড়। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে গড়ে ৩ গোল করেছে, আর গোল খেয়েছে গড়ে ০.৫টি; আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই তারা টপ লেভেলের।
কেউ কেউ বলবে, পর্তুগাল তো প্রথম ম্যাচে কঙ্গো ডিআরকে (刚果金) ১-১ গোলে ড্র করেছিল? ঠিক, প্রথম ম্যাচে শক্ত রক্ষণভাগের বিপক্ষে পর্তুগালের আক্রমণ ভাঙার দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করার পর দলের ফর্ম স্পষ্টভাবেই ফিরে এসেছে। সি রোনালদো জোড়া গোল করেছেন, লেও বদলি নেমেও গোল পেয়েছেন—আক্রমণে একাধিক খেলোয়াড়ের অবদান ছিল। আর ওই ৫-০ জয়টা পরিসংখ্যান বাড়ানোর জন্য নয়, পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের ফল; বল দখল ছিল ৭০ শতাংশের বেশি, আর শটের সংখ্যা প্রতিপক্ষের তুলনায় চার গুণ।
কলম্বিয়ার অবস্থা কী? FIFA র্যাঙ্কিংয়ে তারা ১৩ নম্বরে, আর তাদের মোট দলগত মূল্য মাত্র ৩.০২ বিলিয়ন ইউরো—পর্তুগালের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। স্কোয়াডে ভরসা করার মতো বড় নাম বলতে জে রদ্রিগেজ (J 罗) আর লুইস দিয়াস (路易斯・迪亚斯)—এই দু’জনই। বাকি বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই মূলত ইউরোপের মাঝারি বা নিচের সারির ক্লাব কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার লিগে খেলে। প্রথম দুই ম্যাচে গড়ে ২ গোল করেছে, আর গড়ে ০.৫ গোল খেয়েছে—দেখতে রক্ষণ ভালোই মনে হতে পারে, কিন্তু প্রতিপক্ষ কারা ছিল সেটা দেখতে হবে: উজবেকিস্তান আর কঙ্গো ডিআর—দুটোই গ্রুপের দুর্বল দল। তাদের হারিয়ে বিশেষ কিছু প্রমাণ হয় না।
四、কৌশলগত লড়াই: পাস-নির্ভর ফুটবলের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কাউন্টার, পর্তুগালের আছে বহু উপায়
কৌশলগত দিক থেকে এই ম্যাচটা একেবারে ক্লাসিক দ্বৈরথ—পর্তুগালের পজেশন-নির্ভর ফুটবল বনাম কলম্বিয়ার রক্ষণাত্মক কাউন্টার অ্যাটাক। পর্তুগালের কোচ মার্টিনেজ ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলান, যেখানে দখলভিত্তিক খেলা, উইং দিয়ে আক্রমণ, আর বহুমুখী আক্রমণই মূল। বি ফে ও বি সিলভা মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেন, লেও আর ফেলিক্স দুই প্রান্তে ড্রিবল করে ঢোকেন, আর সি রোনালদো কেন্দ্রে ফিনিশার হিসেবে থাকেন—এই আক্রমণভাগের অস্ত্রভাণ্ডার ভীষণ সমৃদ্ধ।
কলম্বিয়ার কোচ লোরেনজোও ৪-২-৩-১ খেলান, কিন্তু মূল ভাবনা একেবারেই আলাদা—জে রদ্রিগেজ মাঝমাঠে সংগঠকের কাজ করেন, লুইস দিয়াস বামদিকে গতি ও ড্রিবলে আক্রমণ করেন, আর দলটা মূলত রক্ষণাত্মক কাউন্টার ও সেট-পিসের ওপর নির্ভরশীল। কলম্বিয়ার ডিফেন্স যে খারাপ, তা নয়—দুটি ম্যাচে তারা মাত্র ১ গোল হজম করেছে। কিন্তু তাদের সামনে যে আক্রমণ-তীব্রতা পড়বে, তা পর্তুগালের সঙ্গে একেবারেই তুলনীয় নয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কলম্বিয়া কি ধরে রাখতে পারবে? পর্তুগালের উইং-অ্যাটাকের ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী—লেওর গতি, ফেলিক্সের টেকনিক, ক্যানসেলোর ওভারল্যাপ—একটির পর একটি ঢেউয়ের মতো কলম্বিয়ার রক্ষণে চাপ দেবে, আর একসময় ফাঁক বের হবেই। তার ওপর পর্তুগালের সেট-পিসের হুমকিও বড়; বি ফের পাস আর সি রোনালদোর হেডার—দুটিই বড় গোলের অস্ত্র।
বাজারের গতিপ্রবাহও তাই বলছে: শুরুর হ্যান্ডিক্যাপ ছিল পর্তুগালকে ০.৫ গোলের সুবিধা, যা এখন বেড়ে ০.৭৫ হয়েছে—এতে বোঝা যাচ্ছে পর্তুগালের জয়ের ওপর বাজারের আস্থা ক্রমেই বাড়ছে। লড়াইয়ের মানসিকতা, কাগুজে শক্তি, আক্রমণ-রক্ষণ পরিসংখ্যান এবং কৌশলগত দ্বৈরথ—সব মিলিয়ে পর্তুগালের জয়ের সম্ভাবনাই অনেক বেশি, আর সম্ভবত তারা শুধু ১ গোলেই থামবে না।